বলিউড মানেই শুধু ঝলমলে আলো, গ্ল্যামার আর বড় বাজেটের সিনেমা। কিন্তু এই গ্ল্যামারের আড়ালে ঠিক কতখানি অযৌক্তিক বিলাসিতা লুকিয়ে থাকে, সেটাই এবার প্রকাশ্যে আনলেন বলিউডের মিস্টার পারফেকশনিস্ট আমির খান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আজকের অনেক বড় তারকা শুটিং সেটে একাধিক vanity van দাবি করেন।
আমিরের কথায়, আগে যেখানে একজন শিল্পীর জন্য একটি সাধারণ মেকআপ রুমই যথেষ্ট ছিল, এখনকার অবস্থা একেবারেই ভিন্ন। আজকাল অভিনেতা-অভিনেত্রীরা আলাদা আলাদা ভ্যান চান – একটিতে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য, অন্যটিতে অতিথি বসানোর জন্য, আবার কোনো কোনো সময় একটি ভ্যান নাকি শুধু জিমের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। কেউ কেউ এমনকি তিন-চারটি আলাদা ভ্যানও দাবি করেন।
এতে যে শুধু প্রোডাকশনের খরচ বাড়ে তাই নয়, ছবির বাজেটও অনেক সময় বাড়তি চাপের মুখে পড়ে। আমির বলেন, “এই অতিরঞ্জিত চাহিদাগুলো আসলে লজ্জার বিষয়। একজন শিল্পীর আসল কাজ হচ্ছে অভিনয় করা, বিলাসিতা নয়।”
বলিউডে বর্তমানে যখন OTT কনটেন্ট, ছোট বাজেটের ছবি এবং নতুন প্রজন্মের অভিনেতারা দর্শকদের মন জয় করে নিচ্ছেন, তখন এই ধরনের বিলাসী আচরণ নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। সাধারণ দর্শকও জানতে পারছেন তারকাদের এই গ্ল্যামারাস লাইফস্টাইলের আড়ালে কেমন সত্যি লুকিয়ে আছে।
আমির খানের এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গেছে। কেউ কেউ তার সোজাসাপ্টা মন্তব্যকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন, আবার কেউ বলছেন, “তারকারা যদি চাহিদা রাখেন, সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।”
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার – বলিউডের পর্দার আড়ালে থাকা বিলাসিতা ও তার খরচ এখন আর গোপন নেই। দর্শকরাও ক্রমশ বুঝতে পারছেন, একেকটি সিনেমার টিকিটের দামের পেছনে এই অযথা খরচও বড় ভূমিকা রাখে।
এই বিতর্কের শেষ কোথায় হবে তা এখনই বলা মুশকিল, তবে আমির খান যে আলোড়ন ফেলে দিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে দীর্ঘস্থায়ী হবে।














